Today Earthquake: শুক্রবার দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ আচমকা কেঁপে ওঠে কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণাংশ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শহর জুড়ে। পরে জানা যায়, কম্পন শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলাতেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। ভারতের National Center for Seismology জানায়, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের United States Geological Survey-এর তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৩। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মাটি থেকে প্রায় ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে। উৎসস্থল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকা, যা কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত।
হঠাৎ কম্পনে বহু মানুষ অফিস, বাড়ি ও দোকান থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসেন। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া এই ঝাঁকুনি সাধারণ মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার করে। প্রথমদিকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় ক্ষতির খবর সামনে আসে। (Today Earthquake)
উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁর জয় গ্রামে একটি সদ্য নির্মিত বাড়ি আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানা যায়। বসিরহাটের ৭২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি সোনার দোকানের কাচ ভেঙে যায়। হিঙ্গলগঞ্জের একটি পুরনো বাড়ির দেওয়ালে আড়াআড়ি ফাটল ধরা পড়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এসব ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর না থাকলেও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। (Today Earthquake)
কলকাতার বেহালার পর্ণশ্রী এলাকায় একটি রাস্তায় ফাটল দেখা যাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সমাজমাধ্যমে সেই ছবিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, সংশ্লিষ্ট রাস্তা কলকাতা পুরসভার ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগে রাস্তা কাঁচা ছিল এবং কয়েক দিন ধরে সংস্কারের কাজ চলছিল। ভূমিকম্পের আগের রাতেই সেখানে পিচ ঢালা হয়। কম্পনের পর দুপুরে সেই রাস্তায় প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ ফাটল চোখে পড়ে। খবর পেয়ে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে যান এবং দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়াও মধ্য কলকাতার গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ৩৪এ মেটকাফ স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবন হেলে পড়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তবে ভবনের বাসিন্দা ও স্থানীয়দের একাংশ জানান, ভবনটি বহু বছর ধরেই একই অবস্থায় রয়েছে। পরে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগও জানায়, প্রায় ২০ বছর ধরে ভবনটির গঠনগত অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভূমিকম্পের ফলে নতুন করে হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেনি। (Today Earthquake)
শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। নদিয়া ও মুর্শিদাবাদেও মৃদু ঝাঁকুনির খবর মিলেছে। মেদিনীপুর শহরের একাধিক বাড়ি ও আবাসনে কম্পনের প্রভাব পড়ে; কোথাও সিলিং ফ্যান দুলতে দেখা যায়। ঝাড়গ্রাম, হাওড়া ও হুগলিতেও বহু মানুষ ভয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এদিন দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ সিকিমেও মৃদু ভূমিকম্প হয়। সেখানে রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ২.৪। যদিও বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ভূমিকম্পের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেলেও বিভিন্ন জায়গায় অবকাঠামোগত ক্ষতি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Today Earthquake)
শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি কেন্দ্র করে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় কম্পন অনুভূত হয়। মিনাখাঁয় একটি নতুন বাড়ি ভেঙে পড়ে, বসিরহাটে দোকানের কাচ ভাঙে এবং বেহালায় রাস্তায় ফাটল দেখা যায়। বিভিন্ন জেলায় মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বড় প্রাণহানির খবর না মিললেও কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সিকিমেও একই দিনে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
















Leave a Reply