Red Moon: দোল পূর্ণিমার দিন আকাশে দেখা মিলল বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার—পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণের সময় চাঁদের গায়ে লালচে আভা ফুটে ওঠে বলেই একে অনেক সময় ‘রক্ত চাঁদ’ বা ব্লাড মুন বলা হয়। এ দিনের গ্রহণ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। যদিও ভারতের সব প্রান্ত থেকে পূর্ণগ্রাস পর্যায় দেখা সম্ভব হয়নি, তবু দেশের বিস্তীর্ণ অংশের মানুষ রক্তাভ চাঁদের সাক্ষী হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গেও অনেকে চাঁদকে পৃথিবীর ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেছেন, যদিও ছায়ায় প্রবেশের দৃশ্য চোখে পড়েনি। (Red Moon)
চন্দ্রগ্রহণ কীভাবে ঘটে, তা বোঝার জন্য প্রথমে জানা দরকার চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। আমরা চাঁদকে দেখি সূর্যের আলো তার পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হওয়ার ফলে। যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় আসে এবং পৃথিবী মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদের গায়ে পৌঁছাতে পারে না। পৃথিবী তার ছায়া ফেলে চাঁদের উপর। এই অবস্থাকেই বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ। যদি চাঁদ সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর গাঢ় ছায়া বা ‘উম্ব্রা’-র মধ্যে প্রবেশ করে, তখন সেটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। (Red Moon)
পূর্ণগ্রাস চলাকালীন চাঁদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায় না; বরং গাঢ় লাল বা তামাটে রঙ ধারণ করে। এর পেছনে রয়েছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভূমিকা। সূর্যের আলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ভিন্নভাবে প্রতিসরিত ও বিচ্ছুরিত হয়। নীল আলো বেশি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে, আর লাল আলোর বিচ্ছুরণ তুলনামূলক কম হয়। (Red Moon)সেই লাল অংশটুকুই বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে চাঁদের গায়ে গিয়ে পৌঁছায়। ফলে গ্রহণের সময় চাঁদ কালো না হয়ে লালচে দেখায়। এই কারণেই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণকে ‘রক্ত চাঁদ’ বলা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় গ্রহণের দৃশ্য ভিন্ন সময়ে ধরা পড়ে। কলকাতায় বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে চন্দ্রোদয় হয়, আর তখনই আকাশে গ্রহণ দেখা যায়। যদিও পূর্ণগ্রাস পর্যায় তখন শেষ, তবু প্রায় এক ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে গ্রহণ দৃশ্যমান ছিল। দার্জিলিঙে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রহণ নজরে আসে এবং তা প্রায় এক ঘণ্টা ১১ মিনিট স্থায়ী হয়। কোচবিহারে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট গ্রহণ দেখা যায়। মেদিনীপুরে ৫টা ৪৪ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের পর প্রায় এক ঘণ্টা ৪ মিনিট গ্রহণ দৃশ্যমান ছিল। মুর্শিদাবাদে বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে আকাশে এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যায়।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ ছিল প্রচ্ছায়া পর্যায়ে, যখন সেটিকে কিছুটা মলিন দেখায়। এরপর ৬টা ৪৭ মিনিট নাগাদ চাঁদ পৃথিবীর গাঢ় ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তার এক দিক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে উপছায়া পর্যায়ও শেষ হয় এবং পূর্ণিমার চাঁদ আবার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে পায়।
এই গ্রহণ জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কারণ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ তুলনামূলক বিরল এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে খালি চোখেই নিরাপদে দেখা যায়। সূর্যগ্রহণের মতো এতে চোখের সুরক্ষার জন্য বিশেষ চশমার প্রয়োজন হয় না। ফলে সাধারণ মানুষও সহজে এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। (Red Moon)
সংক্ষিপ্তসার (Red Moon)
দোল পূর্ণিমার দিনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে চাঁদ লালচে আভা ধারণ করে, যা ‘রক্ত চাঁদ’ নামে পরিচিত। পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এলে তার ছায়া চাঁদের উপর পড়ে, তখনই চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। বায়ুমণ্ডলের কারণে লাল আলো চাঁদের গায়ে পৌঁছায় এবং নীল আলো ছড়িয়ে যায়, ফলে চাঁদ লাল দেখায়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় চন্দ্রোদয়ের পর প্রায় এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে গ্রহণ দেখা গিয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে উপছায়া পর্যায় শেষ হয়ে চাঁদ স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে পায়।
Read more: 26 জন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ করবে কলকাতা পুরসভা, শিগগিরই শুরু হবে আবেদন প্রক্রিয়া!
















Leave a Reply