Ajit Pawar death: মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার বারামতিতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে মহারাষ্ট্র রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি, ২০২৬) এক সরকারি আধিকারিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৮ জানুয়ারি বারামতিতে ঘটে যাওয়া এই বিমান দুর্ঘটনার পর পুনে জেলার বারামতি থানায় যে আকস্মিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিক নির্দেশের মাধ্যমে সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং গভীর করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পুনে গ্রামীণ পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita বা BNSS)-এর ১৯৪ ধারার অধীনে একটি আকস্মিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছিল। প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা যায়। সিআইডির অভিজ্ঞ আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই তদন্তের কাজ শুরু করেছে।(Ajit Pawar death)
৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ার মুম্বই থেকে একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমানে করে নিজ শহর বারামতির উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। বুধবার সকালে বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করার সময় বারামতির টেবিলটপ এয়ারস্ট্রিপের প্রান্ত থেকে মাত্র প্রায় ২০০ মিটার দূরে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বিমানে থাকা সকলের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
এই দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের সঙ্গে আরও চারজন প্রাণ হারান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিমানের ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর, যাঁর প্রায় ১৫,০০০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল। দীর্ঘদিনের পেশাগত জীবনে তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ পাইলট হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সহ-পাইলট হিসেবে দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেন শম্ভাবী পাঠকের উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল প্রায় ১,৫০০ ঘণ্টা। এছাড়াও নিহতদের মধ্যে ছিলেন অজিত পাওয়ারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক বিদীপ যাদব এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট পিঙ্কি মালি।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বারামতিসহ গোটা মহারাষ্ট্রে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজনৈতিক মহল, প্রশাসনিক স্তর এবং সাধারণ মানুষ—সব মহল থেকেই গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। উপ-মুখ্যমন্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যু রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।(Ajit Pawar death)
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সিআইডির তদন্তকারী দল পুনে গ্রামীণ পুলিশের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্তের নথি, এফআইআর, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, প্রযুক্তিগত রিপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথি, উড়ান পরিকল্পনা, আবহাওয়ার রিপোর্ট এবং এয়ারস্ট্রিপের কারিগরি দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হবে।
এক সরকারি আধিকারিক জানান, তদন্তের সময় বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার এবং তার তথ্য বিশ্লেষণ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।(Ajit Pawar death) দুর্ঘটনার আগে বিমানে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, আবহাওয়াজনিত কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছিল কি না, অথবা অবতরণের সময় কোনো প্রযুক্তিগত বা মানবিক ত্রুটি ঘটেছিল কি না—এই সব দিক খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কী ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়েও সুপারিশ করা হবে।(Ajit Pawar death)
এদিকে, রাজ্য সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বারামতির এই বিমান দুর্ঘটনা শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য এক গভীর ধাক্কা। সিআইডির তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্য প্রকাশ পাবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সংক্ষিপ্তসার (Ajit Pawar death):
বারামতিতে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় মহারাষ্ট্র অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। ২৮ জানুয়ারির দুর্ঘটনার পর পুনে গ্রামীণ পুলিশ যে আকস্মিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিল, তা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৯৪ ধারায় সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মুম্বই থেকে আসা লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি বারামতির টেবিলটপ এয়ারস্ট্রিপের কাছে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় নিহত হন অভিজ্ঞ পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর, সহ-পাইলট শম্ভাবী পাঠক, নিরাপত্তা আধিকারিক বিদীপ যাদব ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট পিঙ্কি মালি। সিআইডির একটি দল তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করছে।(Ajit Pawar death)
Read more: মাত্র ৩০ হাজার বেতনে 4 জনের সংসার! ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি সঞ্চয় সম্ভব কীভাবে?
















Leave a Reply