Bangladesh News: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয়েছে, রাজপথের আন্দোলন আর ভোটের রাজনীতি এক নয়। যাঁরা ছাত্র-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবিতে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিলেন, তাঁদের অনেকেই নির্বাচনী ময়দানে ভরাডুবির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে নতুন গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করতে পারেনি।
চট্টগ্রামে এনসিপির একমাত্র প্রার্থী ছিলেন জুবাইরুল হাসান আরিফ। চট্টগ্রাম-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ন্যূনতম সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটও পাননি। ফলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। রাজপথে সক্রিয় এই যুবনেতার নির্বাচনী ফলাফল দলটির সংগঠনিক দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।
গত দেড় বছরে আন্দোলন-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ছাত্রনেতাদের অধিকাংশই এবার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ২৯৯ আসনের মধ্যে যে আসনগুলির ফল ঘোষণা হয়েছে, তার মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যার নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। ছাত্রদের গড়া এনসিপির ঝুলিতে গেছে মাত্র ৬টি আসন— যা তাদের আন্দোলনী জনপ্রিয়তার তুলনায় অত্যন্ত হতাশাজনক ফল।(Bangladesh News)
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং এনসিপির উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে প্রায় আট হাজার ভোটে হেরেছেন। আন্দোলনের সময় তাঁর কিছু বিতর্কিত মন্তব্যও জনমনে প্রভাব ফেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। একইভাবে, এনসিপির আর এক শীর্ষ নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি ঢাকা-৮ আসনে পরাজিত হয়েছেন। তাঁকে হারিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ।
আলোচিত প্রার্থীদের তালিকায় ছিলেন তাসনিম জারা। ব্রিটেনে চিকিৎসকের পেশা ছেড়ে তিনি আন্দোলনে যোগ দেন এবং পরে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হন। তবে দলটি জামাতের সঙ্গে জোট বাঁধায় তিনি সরে দাঁড়িয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে লড়েন। শেষ পর্যন্ত তাকেও পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাসনিম জারার অবস্থান প্রমাণ করে যে, আদর্শগত প্রশ্নে এনসিপির ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল।(Bangladesh News)
তবে সম্পূর্ণ অন্ধকার নয়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জয় পেয়েছেন, যা দলটির জন্য আংশিক স্বস্তির খবর। তবু সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, আন্দোলনের সাফল্যকে ভোটে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।(Bangladesh News)
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সদ্য গঠিত এই দল সাংগঠনিক দিক থেকে এখনও দুর্বল। বিএনপির মতো দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দলের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রস্তুতি তাদের ছিল না। পাশাপাশি, আন্দোলনের পর রাজনৈতিক দল গঠনকে অনেকেই স্বাগত জানালেও জামাতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তে সমর্থকদের একাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বহু তরুণ কর্মী বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন, কেউ কেউ নির্দল প্রার্থী হিসেবেও দাঁড়িয়েছেন।
আরও একটি অভিযোগ উঠেছে— দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা পুরো সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ঘাটতি এবং আদর্শগত বিভ্রান্তি মিলিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছে এনসিপি। ফলে রাজপথে দাপট দেখানো ‘বিপ্লবী’ নেতাদের অনেকেই ভোটের লড়াইয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।(Bangladesh News)
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন দেখিয়ে দিল— আন্দোলনের উত্তাপ আর ব্যালট বাক্সের বাস্তবতা ভিন্ন। জনতার চূড়ান্ত রায় নির্ধারিত হয় ভোটকেন্দ্রেই, স্লোগানে নয়।
সংক্ষিপ্তসার (Bangladesh News)
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ছাত্র-আন্দোলন থেকে উঠে আসা এনসিপি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি, জামাত ৬৮টি এবং এনসিপি মাত্র ৬টি আসন পেয়েছে। বহু আলোচিত ছাত্রনেতা হেরেছেন, কারও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জামাতের সঙ্গে জোট এনসিপির পরাজয়ের প্রধান কারণ।
Read more: চুম্বন বিতর্কের পর নতুন অভিযোগে ঘিরে উদিত নারায়ণ, থানায় প্রথম স্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি!
















Leave a Reply