Epstein Files: যৌন অপরাধের ছায়ায় হাজার কোটির ঐশ্বর্য! এপস্টিনের সম্পদ কার দখলে যাবে?

Epstein Files

Epstein Files: আমেরিকার প্রভাবশালী ধনকুবের জেফ্রি এপস্টিন প্রথমবার যৌন অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হন ২০০৬ সালে। ফ্লোরিডার পাম বিচে এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে ২০০৮ সালে নাবালিকাকে দেহব্যবসায় যুক্ত করার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন এপস্টিন। সেই মামলায় ১৮ মাসের কারাদণ্ড ভোগের পর মুক্তি পান তিনি।

তবে আইনের হাত থেকে রেহাই বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০১৯ সালে ফের গ্রেফতার হন এপস্টিন—এ বার অভিযোগ, নাবালিকাদের দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত যৌন পাচার চক্র চালানো। গ্রেফতারির কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর নামে থাকা বিভিন্ন নথি ও ফাইল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন তোলে।(Epstein Files)

তদন্তে উঠে আসে, পৃথিবীর নানা দেশের অসংখ্য প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এপস্টিনের। তাঁর ব্যক্তিগত দ্বীপে যাতায়াতের অভিযোগ ওঠে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, টেসলা কর্তা ইলন মাস্ক, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রু, বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, শিল্পী মাইকেল জ্যাকসন, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের মতো নামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। এমনকি এপস্টিন ফাইলে উল্লেখ রয়েছে দার্শনিক নোম চমস্কি ও দলাই লামার নামও। শিল্পপতি, রাজনীতিক, অধ্যাপক ও আইনজীবী—বহু ক্ষেত্রের দাপুটে ব্যক্তিত্বদের নাম ছড়িয়ে রয়েছে এই নথিতে।

যৌন নিগ্রহের শিকার একাধিক মহিলা এপস্টিন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ব্রিটিশ সমাজকর্মী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিশেষ করে ভার্জিনিয়া জিউফ্রের করা মামলার সূত্র ধরেই একের পর এক অন্ধকার অধ্যায় সামনে আসে। ম্যাক্সওয়েল পরে নাবালিকাদের যৌন নিগ্রহের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হন এবং বর্তমানে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন।(Epstein Files)

২০১৯ সালের অগস্টে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয় এপস্টিনের। সরকারি ভাবে একে আত্মহত্যা বলা হলেও, তা নিয়ে আজও নানা প্রশ্ন রয়েছে।(Epstein Files) মৃত্যুর ঠিক দু’দিন আগে তিনি একটি বিশদ আইনি নথিতে স্বাক্ষর করেন, যেখানে তাঁর বিপুল সম্পত্তি কী ভাবে বণ্টন করা হবে, তার বিস্তারিত উল্লেখ ছিল।

মৃত্যুর সময় এপস্টিনের মোট সম্পদের আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। তাঁর জন্মসালের নামে তৈরি ওই ইচ্ছাপত্র বা ‘১৯৫৩ ট্রাস্ট’ ছিল ৩২ পৃষ্ঠার একটি নথি, যা দীর্ঘদিন জনসমক্ষে আসেনি। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষে প্রকাশিত এপস্টিন ফাইলসের সর্বশেষ অংশে এই ট্রাস্ট নথিটি সামনে আসে।(Epstein Files)

ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী, এপস্টিনের সম্পত্তির বড় অংশ পাওয়ার কথা ছিল তাঁর শেষ বান্ধবী, বেলারুশের বাসিন্দা ক্যারিনা শুলিয়াকের। এপস্টিনের থেকে প্রায় ৪০ বছরের ছোট শুলিয়াকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ২০১০ সাল নাগাদ। অল্প সময়েই তিনি এপস্টিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। জেল কর্তৃপক্ষ ছাড়া মৃত্যুর আগের রাতে শেষ যাঁর সঙ্গে এপস্টিন কথা বলেন, তিনি ছিলেন শুলিয়াক—প্রায় ২০ মিনিটের ফোনালাপ হয়েছিল তাঁদের মধ্যে।

শুলিয়াক যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ২০০৯ সালে, তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০। দন্তচিকিৎসার পড়াশোনার খরচ এপস্টিন বহন করেছিলেন বলে জানা যায়।(Epstein Files) শুধু তাই নয়, শুলিয়াকের মায়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং বেলারুশে তাঁর পরিবারের বাড়ির খরচও দিতেন এপস্টিন। সূত্রের দাবি, শুলিয়াককে বিয়ে করার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি এবং ৩৩ ক্যারেটের হীরের আংটি দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন।

ট্রাস্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে, শুলিয়াক মোট ১০ কোটি ডলার এককালীন এবং প্রতি বছর ৫ কোটি ডলার করে ভাতা পাওয়ার কথা। নগদ অর্থ ও গয়নার পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক, পাম বিচ, প্যারিস, নিউ মেক্সিকোর জোরো র‍্যাঞ্চ এবং কুখ্যাত ‘পেডো আইল্যান্ড’ নামে পরিচিত লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপ-সহ একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তিও তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

এপস্টিনের দীর্ঘদিনের আইনজীবী ড্যারেন ইন্ডিক ও হিসাবরক্ষক রিচার্ড কানকেও ট্রাস্টে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়। ইন্ডিকের জন্য ৫ কোটি ডলার এবং কানের জন্য ২.৫ কোটি ডলার বরাদ্দ ছিল। দু’জনকেই এস্টেটের সহ-নির্বাহী করা হয়।

এপস্টিনের মৃত্যুর পর এই দুই ব্যক্তি একটি ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি চালু করেন, যার মাধ্যমে প্রায় ১২ কোটি ডলার তুলে দেওয়া হয় যৌন নির্যাতনের শিকারদের হাতে। পাশাপাশি, এপস্টিনের ভাই মার্ক এপস্টিন, ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল এবং হার্ভার্ডের অধ্যাপক মার্টিন নোয়াকের জন্যও নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ ছিল।(Epstein Files)

তবে কর সংক্রান্ত জটিলতা, একাধিক আইনি মামলা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ফলে এপস্টিনের এস্টেটের মূল্য উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সম্পত্তির মূল্য নেমে এসেছে প্রায় ১২ কোটি ডলারের কাছাকাছি। যদিও কিছু ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগের হিসাব এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় এই অঙ্ক বাড়তেও পারে।

এস্টেটের আইনজীবী ড্যানিয়েল ওয়েইনার জানিয়েছেন, যত দিন না সব পাওনাদার এবং নির্যাতিতদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দাবি মেটানো হচ্ছে, তত দিন কোনও দাবিদারই এই সম্পত্তি থেকে অর্থ পাবেন না।

এদিকে এপস্টিন কী ভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন, তা দীর্ঘদিন ধরেই রহস্য ছিল। ফোর্বস পত্রিকার ২০২৫ সালের তদন্ত অনুযায়ী, তাঁর আয়ের বড় অংশ এসেছিল দু’জন অতি ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে—ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের প্রাক্তন কর্তা লেস ওয়েক্সনার এবং বিনিয়োগকারী লিওন ব্ল্যাক। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এপস্টিনের মোট আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশই এসেছিল এই দুই ব্যক্তির উপর নির্ভর করে।(Epstein Files)

সারাংশ (Epstein Files):

যৌন অপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এপস্টিন ২০০৮ ও ২০১৯ সালে গ্রেফতার হন নাবালিকা যৌন নির্যাতন ও পাচার চক্র চালানোর অভিযোগে। ২০১৯ সালে জেলবন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সম্প্রতি মার্কিন বিচার দফতর প্রকাশ করেছে এপস্টিন ফাইলস—যেখানে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী রাজনীতিক, শিল্পপতি ও খ্যাতনামা ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে।

মৃত্যুর আগে এপস্টিন প্রায় ৬০ কোটি ডলার সম্পদের বণ্টন নিয়ে ‘১৯৫৩ ট্রাস্ট’ নামে একটি ইচ্ছাপত্রে স্বাক্ষর করেন। সেই অনুযায়ী, সম্পত্তির বড় অংশ পাওয়ার কথা ছিল তাঁর শেষ বান্ধবী ক্যারিনা শুলিয়াকের। পাশাপাশি আইনজীবী, হিসাবরক্ষক, পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের জন্যও অর্থ বরাদ্দ ছিল।

তবে আইনি জটিলতা, কর সংক্রান্ত মামলা ও নির্যাতিতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কারণে বর্তমানে এপস্টিনের এস্টেটের মূল্য কমে প্রায় ১২ কোটি ডলারে নেমেছে। এস্টেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্যাতিতদের সব দাবি মেটানো না হওয়া পর্যন্ত কোনও দাবিদারই সম্পত্তির অর্থ পাবেন না।

Read more: এপস্টিনের গোপন ছক—বহু সন্তানের জন্ম, নিউ মেক্সিকোর প্রাসাদে পরীক্ষাগার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *