Mamata Banerjee: কয়েক দিন আগেই সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে ‘আসল পরিবর্তন’-এর ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘোরাতে সিঙ্গুর যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, তা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় সেই সভা। তবে শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিঙ্গুরবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও আশ্বাস শোনা যায়নি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।
এর ঠিক ১০ দিন পর আজ সিঙ্গুরে সভা করে শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে আশার কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সিঙ্গুরে বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আজও সিঙ্গুরের মানুষ মাসে মাসে ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছেন। জমি হারানো পরিবারগুলি খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। ট্রমা কেয়ার সেন্টার, কৃষি বাজার থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার—সবই রয়েছে।”(Mamata Banerjee)
কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরে ৮ একর জমির উপর প্রায় ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ২৮টি প্লটের মধ্যে ২৫টিই ইতিমধ্যে বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষি জমি দখল না করেই শিল্প গড়ে তোলা হবে—কৃষিও চলবে, শিল্পও চলবে।
এছাড়াও এসএআইপি প্রকল্পের আওতায় সিঙ্গুরে ৭৭ একর জমিতে একটি প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো সংস্থাগুলি এখানে বড় ওয়্যারহাউস গড়ছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমরা শুধু কথা বলি না, কাজ করে দেখাই।”(Mamata Banerjee)
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে জেলাগুলির উন্নয়ন ও শিল্পায়ন নিয়ে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিলেও, সিঙ্গুরে শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায় হতাশ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন বা বড় শিল্প স্থাপনের কোনও ইঙ্গিত না পাওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে ‘পরিবর্তন’-এর বার্তা।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এক সময় সিঙ্গুরে শিল্পের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হওয়ায় তিন ফসলি জমির বড় অংশ আজও সমস্যার মধ্যে রয়েছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রয়াত হলেও সিঙ্গুর নিয়ে বিতর্ক ও রাজনৈতিক আলোচনা এখনও থামেনি। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পও আসেনি, কৃষিও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি—এই ক্ষোভ জমেছে মানুষের মনে।(Mamata Banerjee)
এই প্রেক্ষাপটেই সিঙ্গুরে এসে একাধিক সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস করে ‘পরিবর্তন’-এর কথা বলে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু শিল্প নিয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা না মেলায় ক্ষুব্ধ কৃষকদের একাংশ। স্থানীয় কৃষক ধনঞ্জয় ধারার কথায়, “পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কী পরিবর্তন—জমি বদলাবে, না সরকার বদলাবে—তা বুঝতে পারছি না।”
সংক্ষিপ্তসার (Mamata Banerjee):
কয়েক দিন আগে সিঙ্গুরে সভা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘পরিবর্তন’-এর বার্তা দিলেও শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও স্পষ্ট আশ্বাস দেননি। এর ১০ দিনের মাথায় সিঙ্গুরে সভা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে আশার কথা শোনান। তিনি জানান, কৃষি জমি দখল না করেই অ্যাগ্রো ও প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তবে বড় শিল্প বা টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সিঙ্গুরের একাংশ কৃষক এখনও হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
Read more: টাটা মোটরস থেকে মহিন্দ্রা—মঙ্গলবার একাধিক অটো শেয়ারে বড়সড় পতনের আশঙ্কা!
















Leave a Reply