SIR News: SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিগত অসঙ্গতির বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে।

SIR News

SIR News: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন যে, এর আগেই প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র অজুহাতে আরও ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নামের একটি আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের দাবিতে একাধিক রাজনৈতিক দল বারবার সরব হয়েছে, যার জেরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এসআইআর মামলায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতেই হবে।(SIR News)

আজ সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশকে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড়সড় স্বস্তি বলেই মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলের প্রথম এবং প্রধান দাবি ছিল—১ কোটি ৩৬ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্স সংক্রান্ত নামের তালিকা জনসমক্ষে আনা হোক। এই দাবি তারা আগে নির্বাচন কমিশনের কাছেও তুলেছিল এবং পরে সুপ্রিম কোর্টেও জানায়। আদালত সেই দাবিতে সাড়া দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিটি ব্লক অফিস, পঞ্চায়েত অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে সংশ্লিষ্ট তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও, তালিকা প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে যেসব ব্যক্তির নাম রয়েছে, তাঁদের আলাদা করে নোটিস দিতে হবে এবং শুনানির সুযোগ দিতে হবে।

তৃণমূলের দ্বিতীয় দাবি ছিল, শুনানির সময় বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশন এই দাবির বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি দেয়, সব রাজনৈতিক দলের বিএলএ-দের অনুমতি দিলে বিশৃঙ্খলা, তর্ক-বিতর্ক বা হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এই বিষয়েও সুপ্রিম কোর্ট আংশিকভাবে তৃণমূলের পক্ষে রায় দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, শুনানিতে ডাকা কোনো ব্যক্তি চাইলে তাঁর আইনজীবী, পরিবারের সদস্য অথবা দলের কোনো বিএলএ-কে প্রতিনিধি হিসেবে সঙ্গে নিতে পারবেন। তবে তার জন্য লিখিত সম্মতি দেখাতে হবে।

তৃণমূলের তৃতীয় দাবি ছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড সংক্রান্ত। অভিযোগ করা হয়েছিল, জন্মতারিখ উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন শুনানির সময় এই অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করছে না। এই বিষয়টি আজ আদালতে তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্ট এই দাবিকে স্বীকৃতি দিয়ে জানিয়েছে, অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

এছাড়াও আদালত নির্দেশ দিয়েছে, শুনানির সময় যাতে কোনো ধরনের অশান্তি বা হিংসার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা রাখতে হবে। (SIR News) এই দায়িত্ব জেলা শাসকদের ওপর দেওয়া হয়েছে, যাতে পঞ্চায়েত, ব্লক এবং ওয়ার্ড স্তরে যথেষ্ট লোকবল মোতায়েন থাকে।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (SIR News):

এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নামের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এর আগে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে বিপুল সংখ্যক নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় আনা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী তিন দিনের মধ্যে ব্লক, পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড অফিসে তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নোটিস দিয়ে শুনানির সুযোগ দিতে হবে। শুনানিতে ভোটাররা আইনজীবী, পরিবারের সদস্য বা দলের বিএলএ-কে সঙ্গে নিতে পারবেন। পাশাপাশি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং শুনানির সময় শান্তি বজায় রাখতে পর্যাপ্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।(SIR News)

Read more..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *