Suvendu Vs Mamata: বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিইও মনোজকুমার অগ্রবাল, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র। সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি একদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন, অন্যদিকে শাসকদলকে আক্রমণ করে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে কড়া বার্তা দেন।
শুভেন্দু জানান, শান্তিপূর্ণ ও তুলনামূলকভাবে নির্ভেজাল ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়েছিলেন। স্ট্র্যান্ড রোডে অবস্থিত কমিশনের দফতরে প্রবেশের আগে তিনি বলেন, দুই দফার ভোট এবং গণনা যে ভাবে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তাঁর মতে, অনেক জায়গায় ভোটাররা ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন, যা আগে সম্ভব হয়নি।(Suvendu Vs Mamata)
বৈঠক শেষে তিনি বিশেষভাবে ভবানীপুর কেন্দ্রের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, অতীতে যেখানে বহু ভোটার ভোট দিতে ভয় পেতেন, সেখানে এবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ভোট দিয়েছেন। তিনি জানান, বহু আবাসনে প্রথমবারের মতো ইনসাইড পোলিং বুথ তৈরি হওয়ায় ভোটারদের সুবিধা হয়েছে। অনেকেই তাঁকে জানিয়েছেন, এবারই প্রথম তাঁরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে Mamata Banerjee-কে তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রী আর প্রাসঙ্গিক নন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়া না-দেওয়ার প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চাননি, তবে আশা প্রকাশ করেন যে সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় এ বার ঘটনা অনেক কম হলেও কোনও রকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় যে ধরনের হিংসা দেখা গিয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত বলে দাবি করেন তিনি। তবুও তিনি স্পষ্ট করে দেন, আইন ভাঙলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শুভেন্দু আরও বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনাগুলির তদন্ত পুনরায় শুরু করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী ভোট-পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া হাজার হাজার এফআইআর এবং মৃত্যুর ঘটনাগুলি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। সেই সমস্ত ফাইল আবার খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।(Suvendu Vs Mamata)
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, কোথায় কী ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে পুলিশকে। একই সঙ্গে তিনি সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে দলমত বা ধর্ম নির্বিশেষে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, একই দিনে রাজ্য বিজেপি সভাপতি Samik Bhattacharya-ও হিংসার বিষয়ে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে যারা হিংসার সঙ্গে যুক্ত, তারা অনেকেই নিজেদের বিজেপি কর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছে। তবে দলের কোনও সদস্য যদি প্রকৃতপক্ষে হিংসায় জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দলের কোনও নেতা বা কর্মী যদি উস্কানি দেয় বা অশান্তি ছড়ায়, তবে তাকে গ্রেফতার করানো হবে। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, এমন ঘটনার প্রমাণ বা তথ্য সামনে আনতে। প্রয়োজনে তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলেও আশ্বাস দেন।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে কমিশনের প্রশংসা, অন্যদিকে হিংসা নিয়ে কড়া বার্তা—এই দুইয়ের মিশ্রণে বিরোধী শিবিরের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু অধিকারী।(Suvendu Vs Mamata)
সংক্ষিপ্তসার (Suvendu Vs Mamata)
Suvendu Adhikari নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা বরদাস্ত না করার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি Mamata Banerjee-কে রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক বলে কটাক্ষ করেন। অন্যদিকে Samik Bhattacharya জানান, বিজেপির কেউ হিংসায় জড়ালে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (Suvendu Vs Mamata)
















Leave a Reply