Sayak Chakraborty Beef Case: বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ নেই। সময় গড়ালেও সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনা একটুও কমেনি। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তীর অভিযোগ ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে মতামতে এখনও সরগরম নেটদুনিয়া। কেউ তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ প্রকাশ্যেই পাশে দাঁড়াচ্ছেন সায়কের।
পার্ক স্ট্রিটের এক নামী রেস্তোরাঁয় ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। সায়ক অভিযোগ করেন, মাটন স্টেক অর্ডার করা হলেও তাঁকে পরিবেশন করা হয়েছিল বিফ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রেস্তোরাঁর এক ওয়েটারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও পরে বিতর্কিত সেই ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে নেন সায়ক চক্রবর্তী। তবু তর্ক-বিতর্ক থামেনি।
কী অভিযোগ করেছিলেন সায়ক
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সায়ককে বলতে শোনা যায়, তাঁরা মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু প্লেটে যা দেওয়া হয়, তা আসলে ছিল বিফ। তাঁর দাবি, খাবার পরিবেশনের সময় কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁরা ধরে নেন সেটিই মাটন স্টেক। খাওয়ার পর ফের আরেকটি ডিশ এলে ওয়েটার জানান, বিফ ও মাটন—দু’ধরনের স্টেকই দেওয়া হয়েছে। তখনই তাঁদের বোঝা যায়, এতক্ষণ তাঁরা যে খাবার খেয়েছেন, তা আসলে বিফ।
কে বিপক্ষে, কে পক্ষে (Sayak Chakraborty Beef Case)
ভিডিওতে দেখা যায়, ভুলের জন্য ওয়েটার ক্ষমা চাইছেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। থানায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং পুলিশ ওই ওয়েটারকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী কটাক্ষ করে লেখেন, মাটন, সন্দেশ, পানিফল বা বিফ—খেয়ে কি বোঝা যায় না কোনটা কী? একই সুরে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ও তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা হিংসায় উসকানি দেওয়ার মতো এবং রাজ্যের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা।(Sayak Chakraborty Beef Case)
পরিচালক সৌরভ পালোধি প্রশ্ন তুলেছেন, এই ঘটনার জেরে ওই গরিব ওয়েটারের চাকরি থাকবে তো? তাঁর পোস্টে কনটেন্টের নামে সহানুভূতির অভাবের অভিযোগও উঠে এসেছে।
তবে সায়কের পাশেও যে অনেকে দাঁড়িয়েছেন, সেটাও স্পষ্ট। বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ লেখেন, যদি পোশাক পরা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয় হয়, তাহলে কী খাব তা বেছে নেওয়ার অধিকার কেন নয়? তাঁর প্রশ্ন, মাটনের নামে বিফ পরিবেশন করে পরে ‘ভুল হয়ে গেছে’ বললে কি অপরাধ হালকা হয়ে যায়?
বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারীও একই সুরে বলেন, মাটনের বদলে বিফ দেওয়ার অভিযোগে অলিপাবের ওয়েটার গ্রেফতার হলেও, তার পক্ষেই এখন গলা ফাটাচ্ছে একাংশ। তিনি অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ অলিপাবের ওই ওয়েটারকে গ্রেফতার করেছে। (Sayak Chakraborty Beef Case)কিন্তু আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি, সামাজিক মাধ্যমে এই বিতর্ক যে এখনও বহুদিন চলবে, তা বলাই বাহুল্য।
















Leave a Reply