Mamata Banerjee SIR: এসআইআর মামলা ঘিরে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এক নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দেশ। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের দায়ের করা মামলায় নিজেই সওয়াল করলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আদালতে উপস্থিত থেকে তাঁর বক্তব্য পেশ করেন। সোমবার এই মামলার শুনানি হলেও এদিন আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এসআইআর প্রক্রিয়া হবেই এবং তাতে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না। আদালত জানায়, এসআইআর বাস্তবায়নের বিষয়টি সব রাজ্যকে মানতে হবে এবং প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে চলে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল কড়া ও স্পষ্ট।(Mamata Banerjee SIR)
এদিন শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে মোট ৮ হাজার ৫৫৫ জন গ্রুপ-বি অফিসারের নাম পাঠানো হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, তারা কেবল সংখ্যার তথ্য পেয়েছেন, নামের কোনও বিস্তারিত তালিকা হাতে আসেনি। এ নিয়ে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, তালিকা ৭ তারিখে পাঠানো হয়েছে বলা হলেও তা ৪ বা ৫ তারিখেই পাঠানো সম্ভব ছিল। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন—নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা কেন পাঠানো হয়নি।(Mamata Banerjee SIR)
এই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, কমিশনের জবাবের অপেক্ষাতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তখন প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে বলেন, তথ্য নিয়ে কোনও বিতর্ক আদালত চায় না। প্রয়োজনে মুখ্যসচিবকে হলফনামা জমা দিতে বলা হতে পারে।
রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন কখনও রাজ্যের কাছে সরাসরি গ্রুপ-বি অফিসার চায়নি। কর্মী সংকটের কারণে বাইরে থেকে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছিল—এ কথা উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। অপরদিকে কমিশনের আইনজীবী জানান, তাঁদের প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩০০ জন গ্রুপ-বি অফিসার, কিন্তু বাস্তবে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৮০ জন। বাকি কর্মীরা ছিলেন গ্রুপ-সি ক্যাটাগরির।
শুনানিতে আরও জানানো হয়, রাজ্যে মোট ২৯৪ জন ইআরও রয়েছেন এবং তাঁরা সকলেই গ্রুপ-এ অফিসার। প্রত্যেক ইআরও এসডিএম পদমর্যাদার এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আইএএস অফিসারও আছেন। গ্রুপ-বি অফিসাররা এই ইআরওদের অধীনেই কাজ করেন—এই তথ্য তুলে ধরেন প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।(Mamata Banerjee SIR)
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূল সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে মামলা করায় নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় একাধিক পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দাবি, তা না হলে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিত এবং পুরো প্রক্রিয়া বিজেপির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হতো, যা এবার আর সম্ভব হয়নি।
সংক্ষিপ্তসার (Mamata Banerjee SIR)
এসআইআর মামলা ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিজের মামলায় সওয়াল করেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা যাবে না। গ্রুপ-বি অফিসার নিয়োগ ও তালিকা পাঠানো নিয়ে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মতভেদ উঠে আসে। তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নেয় সর্বোচ্চ আদালত, আর এই মামলা রাজনৈতিক মহলেও বড় প্রভাব ফেলেছে।
Read more: এপস্টিন নথিতে এবার উঠে এল অনুরাগ কাশ্যপের নাম—নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন বলিউডের এই পরিচালক!
















Leave a Reply