Extra marrital affair: ভ্যালেন্টাইনস ডে-কে ঘিরে গোপন সাক্ষাৎ, আর সেই পরিকল্পনাই কাল হয়ে দাঁড়াল এক পুলিশকর্মীর জন্য। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে প্রেমিকার বাড়িতে রাত কাটাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে ধরা পড়লেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহ জেলা-র ভালুকা থানা এলাকায়। ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর চাকরি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন এএসআই পদমর্যাদার পুলিশকর্মী, যিনি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। জেলা পুলিশের তরফে একাধিকবার তাঁকে নোটিস পাঠানো হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সন্দেহ আরও জোরালো হয়।(Extra marrital affair)
পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, প্রেমিকার স্বামী সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কাজ করেন। স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামেই বসবাস করেন। একই এলাকায় থাকার সুবাদে অভিযুক্ত পুলিশকর্মী ও ওই নারীর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক বিবাহ বহির্ভূত প্রেমে রূপ নেয় বলে অভিযোগ। দু’জনেরই আলাদা সংসার এবং সন্তান থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে বিশেষভাবে দেখা করার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। শনিবার গভীর রাতে ওই পুলিশকর্মীকে এলাকার এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। কারণ, বাড়ির কর্তা বিদেশে থাকেন এবং স্ত্রী একাই দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানে থাকেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন প্রতিবেশী নজরদারি শুরু করেন।
রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ স্থানীয় কয়েকজন ওই বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা অভিযুক্ত পুলিশকর্মী ও প্রবাসীর স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি। এরপর খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকেই আটক করে থানায় নিয়ে যান। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নারীর বয়স ২৩ বছর। তাঁর দুই বছর বয়সী যমজ পুত্র সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত এএসআইয়েরও দুটি সন্তান আছে—একজনের বয়স সাত বছর এবং অন্যজনের বয়স আড়াই বছর। দুই পরিবার থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক চলছিল বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।
এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার এসআই মহম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আগেই ছিল। নতুন করে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে আটক হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত পুলিশকর্মী ও ওই নারীকে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় প্রসিকিউশন দিয়ে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।(Extra marrital affair)
ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাকরি টিকবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একদিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের এই বিতর্ক—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি তাঁর পক্ষে জটিল হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশকর্মীর এমন ঘটনায় জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত লজ্জাজনক।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—ব্যক্তিগত সম্পর্কের সীমা লঙ্ঘন এবং দায়িত্বে অবহেলা মিলেমিশে কীভাবে এক জন সরকারি কর্মীর পেশাগত জীবন বিপন্ন করে দিতে পারে।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Extra marrital affair)
ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে প্রেমিকার বাড়িতে রাত কাটাতে গিয়ে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানা এলাকায় হাতেনাতে ধরা পড়েন এক এএসআই পদমর্যাদার পুলিশকর্মী। প্রেমিকার স্বামী সৌদি আরবে প্রবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে প্রতিবেশীরা আপত্তিকর অবস্থায় দু’জনকে ধরে পুলিশে খবর দেন। অভিযুক্ত পুলিশকর্মী আগে থেকেই অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। দু’জনকেই দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর চাকরি এখন অনিশ্চিত।
















Leave a Reply