Kolkata Crime News: দেবতার বেশে অভিনব প্রতারণা! কলকাতায় ফাঁস হল বড় পকেটমার চক্র, কাণ্ডকারখানা জানলে চমকে উঠবেন!

Kolkata Crime News

Kolkata Crime News: দেবদেবীর বেশে অভিনব কায়দায় পকেটমারি চালাত একদল বহুরূপী। কখনও মা কালী, কখনও শিবের সাজে শহরের ব্যস্ত মোড়, ট্রাফিক সিগন্যাল কিংবা জনবহুল এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকত তারা। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ ভিক্ষুক বা ধর্মীয় সাজে ঘুরে বেড়ানো শিল্পী মনে হলেও, আড়ালে চলত সুপরিকল্পিত চুরি। সাম্প্রতিক তদন্তে এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।

পুলিশের দাবি, এই দলটি বিশেষভাবে মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগাত। ধরুন, আপনি ট্রাফিক সিগন্যালের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বা রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায়। হঠাৎ আপনার সামনে এসে দাঁড়ালেন কালী বা শিব সেজে কেউ। ধর্মীয় ভক্তি বা সহানুভূতির বশে অনেকেই কিছু টাকা হাতে তুলে দিতেন। কিন্তু সেই মুহূর্তেই কৌশলে কাজ সেরে ফেলত চক্রের সদস্যরা। টাকা নেওয়ার সময় বা আশীর্বাদ দেওয়ার ভঙ্গিতে তারা এমন নিপুণভাবে পকেট কাটত যে, ভুক্তভোগী টেরই পেতেন না কখন মানিব্যাগ, মোবাইল বা মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।(Kolkata Crime News)

পুলিশ জানিয়েছে, এরা দলবদ্ধভাবে কাজ করত। একজন সামনে এসে কথা বলত বা মনোযোগ ঘোরাত, অন্যজন সুযোগ বুঝে পকেট পরিষ্কার করত। এরপর মুহূর্তের মধ্যে সেখান থেকে সরে পড়ত তারা। অনেক সময় শিকার বুঝতেই পারতেন না ঠিক কখন চুরি হয়েছে। কিছু দূরে গিয়ে তবেই ধরা পড়ত যে তাঁর জিনিসপত্র উধাও।

ঘটনার সূত্রপাত একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ থেকে। জোড়াসাঁকো থানায় দায়ের হওয়া এক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তের জেরে হেস্টিংস এলাকা থেকে চারজনকে আটক করা হয়। বর্তমানে তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতদের প্রত্যেকেই গুজরাতের আনন্দ জেলার বাসিন্দা। তাদের নাম অনিল রামজু সালাত, ধীরু কালোভাই সালাত, সমীরভাই সালাত এবং রাজু কুমার।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শুধু কলকাতাতেই নয়, অন্য শহরেও একই কৌশলে চুরি চালাত এই চক্র। বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে ধর্মীয় বেশ ধারণ করে মানুষের বিশ্বাসকে হাতিয়ার বানাত তারা। এদের লক্ষ্য ছিল জনবহুল এলাকা, যেখানে দ্রুত ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়া সহজ।(Kolkata Crime News)

এই চক্রের খোঁজ মেলে আরেকটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে। গিরীশ পার্ক থানায় দায়ের হওয়া একটি মোবাইল চুরির ঘটনায় পার্ক স্ট্রিট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মহম্মদ শাহনওয়াজ ও মহম্মদ সমীর নামে দুই ব্যক্তিকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সামনে আসে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান দেবতার বেশধারী এই চার অভিযুক্তের কাছে।(Kolkata Crime News)

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করত। মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর বিশেষ কৌশল ছিল তাদের আয়ত্তে। কখনও আশীর্বাদ দেওয়ার অঙ্গভঙ্গি, কখনও প্রসাদ দেওয়ার ভান—এই সব কিছুর আড়ালেই চলত হাতসাফাই। তাদের চলাফেরা, কথা বলার ধরন এবং সাজপোশাক এমন ছিল যে সাধারণ মানুষ সন্দেহ করার সুযোগ পেতেন না।(Kolkata Crime News)

বর্তমানে তদন্ত চলছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, কিংবা তাদের কার্যক্ষেত্র কতটা বিস্তৃত—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শহরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপরিচিত কারও সঙ্গে লেনদেনের সময় ব্যক্তিগত সামগ্রী সাবধানে রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

সারাংশ(Kolkata Crime News)

দেবদেবীর ছদ্মবেশে কলকাতার ব্যস্ত এলাকায় পকেটমারি চালাত চারজনের একটি চক্র। মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে তারা টাকা চাইত এবং সুযোগ বুঝে মোবাইল ও মানিব্যাগ চুরি করত। জোড়াসাঁকো থানার অভিযোগ ও অন্য একটি মামলার সূত্র ধরে হেস্টিংস এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতরা গুজরাতের বাসিন্দা এবং অন্যান্য শহরেও একই কায়দায় চুরি চালাত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তদন্ত এখনও চলছে।(Kolkata Crime News)

Read more: ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে পরকীয়ার অভিযোগে রাত কাটাতে গিয়ে বিপাকে পুলিশকর্মী! আপত্তিকর পরিস্থিতিতে ধরা পড়ার পর যা ঘটল…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *