West Bengal CM: পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর নামেই সিলমোহর দিল বিজেপি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের অন্দরে তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। শুক্রবার বিজেপির জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
কী ভাবে হল নির্বাচন?
- নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ।
- সহকারী পর্যবেক্ষক ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
- বৈঠকে আটটি প্রস্তাব জমা পড়লেও প্রতিটি প্রস্তাবেই শুভেন্দুর নাম ছিল।
- দ্বিতীয় কোনও নাম প্রস্তাব না আসায় তাঁকেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা ঘোষণা করা হয়।
অমিত শাহ বৈঠকের পরে জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সমস্ত বিধায়কের সমর্থন শুভেন্দুর পক্ষেই ছিল।
কেন এগিয়ে ছিলেন শুভেন্দু?
ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ হিসেবে উঠে আসেন। তার প্রধান কারণ, তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় পেয়েছেন।
- ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় আসেন শুভেন্দু।
- এ বারও নন্দীগ্রামে জয় ধরে রাখেন। (West Bengal CM)
- পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রেও মমতার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ব্যবধানে জয় পান।
- রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জোড়া জয় তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে।(West Bengal CM)
দলের একাংশের মতে, এত বড় নির্বাচনী সাফল্যের পরে শুভেন্দুকে উপেক্ষা করা হলে বিজেপির অন্দরেই অসন্তোষ তৈরি হতে পারত।
বিজেপির ঐতিহ্য ঘিরে জল্পনা (West Bengal CM)
যদিও শুভেন্দুর নাম অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধরা হচ্ছিল, তবুও রাজনৈতিক মহলে কিছুটা কৌতূহল ছিল। কারণ, অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চমক দিয়েছে। অনেক সময় এমন নেতাকে সামনে আনা হয়েছে, যাঁর নাম আগে আলোচনাতেই ছিল না।(West Bengal CM)
তবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি আলাদা ছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে:
- মমতার বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করে জয় পাওয়া শুভেন্দুর রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।
- বিজেপির বিপুল জয়ের পরে নেতৃত্ব নিয়ে পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি নেয়নি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
- ফলে শেষ পর্যন্ত পরিচিত ও শক্তিশালী মুখের উপরেই আস্থা রাখা হয়েছে। (West Bengal CM)
নির্বাচনের ফলাফল
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফল ঘোষণা হয়েছে। (West Bengal CM)
- বিজেপি জয় পেয়েছে ২০৭টি আসনে।
- তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন।
- বাম, কংগ্রেস ও অন্যান্য দল মিলিয়ে পেয়েছে ৬টি আসন।
- ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন বাকি রয়েছে।
এই ফলাফল বিজেপির জন্য ঐতিহাসিক বলে মনে করা হচ্ছে।
শপথে থাকবেন মোদী-শাহ
শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিজেপি শিবিরে ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
- অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।
- অমিত শাহ শুক্রবার সকালেই কলকাতায় পৌঁছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পুজো দেন।
- ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বড় আকারে শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সাংবিধানিক পরিস্থিতি নিয়েও বিতর্ক
নির্বাচনে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ভোটে অনিয়ম হয়েছে এবং আইনি পথে লড়াই চালানো হবে। এর ফলে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
- সপ্তদশ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দেন।
- কিন্তু তদারকি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
- রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ওই সময় কার্যত প্রশাসনিক দায়িত্ব রাজ্যপালের হাতেই ছিল।
সব জল্পনা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপি পরিষ্কার করে দিল, আগামী পাঁচ বছর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গের সরকার চলবে।
Read more: কারখানার দূষিত জল পরিশোধনে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষক নিচ্ছে এনআইটি দুর্গাপুর!
















Leave a Reply